১১ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন

Published: October 27, 2026, 12:12 pm

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার লক্ষণ দেখা দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিনের শুরুতেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দর প্রায় ১ শতাংশ হ্রাস পায়। বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার বা শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ কমে ১১৪ দশমিক ৮১ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৮৮ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০০ দশমিক ৮৮ ডলারে অবস্থান করে। দিনের শুরুতে উভয় ধরনের তেলের দামেই প্রায় ১ শতাংশ নিম্নগতি দেখা গিয়েছিল।

এই দরপতনের পেছনে কাজ করছে মধ্যপ্রাচ্যের চার দেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা। গত সোমবার তেহরানে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। ওই আলোচনায় অঞ্চলটিতে স্থিতিশীলতা ফেরানো ও নিরাপত্তার স্বার্থে সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, অংশগ্রহণকারী চার দেশ এই আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে। নয়াদিল্লিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসএস ওয়েলথস্ট্রিটের প্রতিষ্ঠাতা সুগন্ধা সচদেবের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় সৃষ্ট নতুন কূটনৈতিক পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নিতে উৎসাহিত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানো এবং শান্তি ও নিরাপত্তায় সহযোগিতা জোরদার করাই ছিল আলোচনার মূল লক্ষ্য।

তেলের বাজারে এই স্বস্তির পাশাপাশি উদ্বেগের কারণও বিদ্যমান। গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালির কাছে তেলবাহী জাহাজে ধারাবাহিক হামলার ঘটনার পর ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলারের ওপর উঠে গিয়েছিল, যা ছিল এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। সোমবারও এই উচ্চমূল্য অব্যাহত ছিল। এর পাশাপাশি সৌদি আরবে হুথিদের নতুন করে হামলার ঘটনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি হয়ে যেত, কিন্তু বর্তমান অস্থিরতায় সেখানে তেল পরিবহন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে এই নৌপথ দিয়ে তেল পরিবহনের পরিমাণ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে।

এএনজেড রিসার্চের প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি এখনো নাজুক পর্যায়ে রয়েছে। পরিবহন ও পরিশোধন খাতের চাপ এবং উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে টানা চার সপ্তাহ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হ্রাসের বিষয়টি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এছাড়া বিশ্বজুড়ে পরিশোধিত জ্বালানির মজুত বর্তমান পরিস্থিতিতে গত পাঁচ বছরের গড়ের চেয়ে প্রায় ৫ শতাংশ কম রয়েছে। সামগ্রিক এই সংকট ও ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা জিইয়ে রেখেছে।