১৬ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাইব্যুনাল প্রধানকে বরখাস্ত ঘিরে পোল্যান্ডে বিক্ষোভ, দেশে ফিরছেন প্রেসিডেন্ট

Published: October 31, 2026, 8:17 pm

পোল্যান্ডের সাংবিধানিক ট্রাইব্যুনালের প্রধান বগদান শভিয়েঞ্চকোভস্কিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করাকে কেন্দ্র করে দেশে তীব্র উত্তাপ ও বিক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ইউরোপপন্থী বর্তমান সরকারের এই সিদ্ধান্তকে অন্যায্য দাবি করে শুক্রবার কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী ট্রাইব্যুনালের সামনে অবস্থান নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পুরো এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করে।

পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভের একপর্যায়ে কিছু ব্যক্তি ট্রাইব্যুনালের সুরক্ষাবেড়া ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা চালান। পাশাপাশি তারা দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারেন। আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করেছে।

প্রেসিডেন্টের সফর বাতিল ও দেশে ফেরার ঘোষণা

ঘটনার সময় পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাওরোকি সেনেগালের উদ্দেশে আকাশপথে ছিলেন। অস্থিতিশীল পরিস্থিতির খবর পেয়ে শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে তিনি ফ্লাইট ঘুরিয়ে দেশে ফেরার ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘এমন মুহূর্তে প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই পোল্যান্ডে থাকতে হবে। আমি সেনেগাল যাত্রা সংক্ষিপ্ত করছি। আমি ফিরে আসছি।’ তবে তাঁর পদ্ধতি সবার পছন্দ না-ও হতে পারে বলে স্বীকার করেন তিনি।

বিচারবিভাগ ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের পটভূমি

পোল্যান্ডের শীর্ষ বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইউরোপপন্থী বর্তমান সরকার এবং প্রধান বিরোধী দল জাতীয়তাবাদী-রক্ষণশীল ল অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির (পিআইএস) মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকাকালে পিআইএস বিচার বিভাগের ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ চাপায় বলে পোল্যান্ড ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সমালোচকরা অভিযোগ করেন। এর জেরে ইইউ পোল্যান্ডকে আর্থিক জরিমানাও করে। পিআইএসের এসব সংস্কারের কারণে ইইউ পোল্যান্ডকে জরিমানা করেছে। পিআইএস বর্তমানে সবচেয়ে বড় বিরোধী শক্তি।

২০২৩ সালে ডোনাল্ড টাস্কের নেতৃত্বে ইউরোপপন্থী সরকার ক্ষমতায় এসে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফেরানোর উদ্যোগ নেয়। তবে পিআইএস-ঘনিষ্ঠ প্রেসিডেন্ট ভেটো দেওয়ায় সরকারের সেই প্রচেষ্টা বারবার বাধাগ্রস্ত হয়। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে আদালতের ওয়েবসাইটে শভিয়েঞ্চকোভস্কির বরখাস্তের বার্তা প্রকাশের পরই সাইটটি বন্ধ হয়ে যায়, ফলে এর আনুষ্ঠানিক বিবরণ স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। দলটির রাজনীতিকেরা শভিয়েঞ্চকোভস্কির সাময়িক বরখাস্তের সমালোচনা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী টাস্কের অবস্থান ও বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া

প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক অভিযোগ করেন, পিআইএস আমলে নিযুক্ত শভিয়েঞ্চকোভস্কি সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশে নির্বাচিত বিচারকদের ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব পালনে বাধা দিচ্ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী টাস্ক এক্সে লেখেন, ‘আইনের শাসন পুনরুদ্ধার করা আমাদের দায়িত্ব।’ এর আগে আগস্টে ‘কাম্পুস পলস্কা’ অনুষ্ঠানেও তিনি বিচারকদের পুনঃপ্রতিষ্ঠার সরকারি পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালে আবারও বৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া বিচারকদের বসানো নিশ্চিত করতে তাঁর সরকারের একটি পরিকল্পনা আছে।

অন্যদিকে পিআইএস নেতারা এই বরখাস্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সাবেক বিচারমন্ত্রী জবিগনিয়েফ জিওব্রো এক্সে লিখেছেন, ‘এটি সাংবিধানিক ব্যবস্থার ওপর এক নির্লজ্জ, অপরাধমূলক আক্রমণ। সে কারণেই আমি প্রতিরোধের ডাক দিচ্ছি—যে প্রতিরোধ হবে সোচ্চার, দৃঢ়, সংহতিপূর্ণ ও নির্ভীক।’