
২০২৬ সালের এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফলাফলে চরম বৈসাদৃশ্য দেখা দিয়েছে। উপজেলার কিছু প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা অভাবনীয় সাফল্য পেলেও অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাসের হার অত্যন্ত হতাশাজনক। এই ফলাফলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
ফলাফলে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে ছোট দারোগারহাট তাহের-মনজুর কলেজ, যেখানে পাসের হার মাত্র ২৩.৫৩ শতাংশ। অর্থাৎ এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭৬.৪৭ শতাংশ শিক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছে। একই ধারাবাহিকতায় বিজয় স্মরণী কলেজে পাসের হার ২৫.৮৩ শতাংশ, লতিফা সিদ্দীকী ডিগ্রি কলেজে ৩৫.৯৬ শতাংশ এবং সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজে ৪৭.৪১ শতাংশ। মাদ্রাসার ক্ষেত্রেও একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে; সীতাকুণ্ড কামিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষায় পাসের হার মাত্র ৪৮.৫৭ শতাংশ, যা জাতীয় গড় ৬১.০৭ শতাংশের তুলনায় ১২.৫০ শতাংশ কম। সীতাকুণ্ডের কোনো প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাওয়ার অসাধারণ কৃতিত্ব দেখালেও, অন্য একটি কলেজে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রতি চারজনের মধ্যে প্রায় তিনজনই অকৃতকার্য হয়েছে। পিছিয়ে নেই মাদ্রাসা চিকিৎসাও, সীতাকুণ্ড কামিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষায় পাস করেছে মাত্র ৪৮.৫৭ শতাংশ শিক্ষার্থী, যা জাতীয় গড়ের (৬১.০৭ শতাংশ) চেয়ে ১২.৫০ শতাংশ কম।
বিপরীত দিকে, কিছু প্রতিষ্ঠান শতভাগ পাসের গৌরব ধরে রেখেছে। বারবকুণ্ড হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১৩৪ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে এবং ১৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, যেখানকার ৪৪ জন পরীক্ষার্থীর প্রত্যেকেই পাস করার পাশাপাশি জিপিএ-৫ পেয়েছে। এছাড়া সীতাকুণ্ড সরকারি মহিলা কলেজে পাসের হার ৬৯.০৮ শতাংশ এবং কুমিরা রেসিডেনশিয়াল গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৬৪.৫৬ শতাংশ পাসের হার অর্জিত হয়েছে।
ফলাফলের এই বড় ব্যবধান নিয়ে সীতাকুণ্ড আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ওসমান গনি বলেন, যারা নিয়মিত পড়াশোনা করেছে মূলত তারাই কৃতকার্য হয়েছে। তিনি জানান, খারাপ ফলাফল করা প্রতিষ্ঠানে অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষক সংকট, পাঠদানে শিথিলতা এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি নজরদারি না থাকাই এমন বিপর্যয়ের মূল কারণ। তাই বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৩০ শতাংশের নিচে, সেসব প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কার্যক্রম পর্যালোচনার দাবি জোরালো হচ্ছে। শিক্ষকসংকট, নিয়মিত পাঠদানের অভাব এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের তদারকি না থাকাকে দায়ী করছেন অভিভাবকরা।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফলও এবার উদ্বেগজনক। ২০২৬ সালে বোর্ডে পাসের হার ৫২.০৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৯২৯ জন। এটি ২০২৪ সালের পাসের হার ৭০.৩২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তি ১০ হাজার ২৬৯ জনের চেয়ে বেশ কম। এমনকি ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৫২.৫৭ শতাংশ এবং ৬ হাজার ৯৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল। গত দুই বছরে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে ৭ হাজার ৩৪০ জন। শিক্ষাবিদদের মতে, পিছিয়ে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামীতেও এমন বিপর্যয়ের আশঙ্কা থেকে যাবে।





