
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় বিএনপি নেতাকে আঘাতের অভিযোগে করা মামলায় কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক সবুজকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত ৫ নভেম্বর জামিন শুনানির পর আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এনামুল হক সবুজের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফারুক আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মারামারির অভিযোগে করা মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী ৩২৬ ও ৩২৭ ধারার মামলাগুলো সাধারণত জামিন অযোগ্য। যদিও দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার একটি প্রক্রিয়া ছিল বলে তিনি জানান।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ৮ ফেব্রুয়ারি। ওইদিন বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নের মাশরা এলাকায় মাধবপুর গ্রামের স্থানীয় বিএনপি নেতা মুহাম্মদ সুলতান আহমেদ এবং তার ছেলে শাহরিয়ার হোসেন শুভকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী সুলতান আহমেদ বাকশিমুল ইউনিয়ন ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বুড়িচং থানায় একটি মামলা দায়ের করেন তিনি।
মামলায় এনামুল হক সবুজসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। আসামিদের তালিকায় রয়েছেন বাকশিমূল উত্তরপাড়া এলাকার মৃত ওবায়দুল হকের ছেলে এনামুল হক সবুজ, একই এলাকার তফাজ্জল খানের ছেলে রহিম খান লিটন, মৃত ওবায়দুল হকের ছেলে এহসানুল হক, মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মো. কামাল হোসেন এবং কালিকাপুর এলাকার হুমায়ুন কবিরের ছেলে বাহার মিয়া ও মো. মিঠুসহ অজ্ঞাত আরও চার থেকে পাঁচজন। অন্যরা হলেন, একই এলাকার তফাজ্জল খানের ছেলে রহিম খান লিটন, মৃত ওবায়দুল হকের ছেলে এহসানুল হক, মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মো. কামাল হোসেন, কালিকাপুর এলাকার হুমায়ুন কবিরের ছেলে বাহার মিয়া ও মো. মিঠুসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জন।
তবে এই ঘটনার বিপরীতে আরেকটি পাল্টা মামলাও দায়ের করা হয়েছে। সুলতান আহমেদ ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার অভিযোগ এনে এনামুল হক সবুজ বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় মামলা করেন, যেখানে সুলতান আহমেদকে প্রধান আসামি করা হয়। বাকশিমুল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জসীম উদ্দীন জানান, রেললাইনের সরকারি মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল এবং উভয় পক্ষই থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে। তবে কারাগারে থাকায় এই ঘটনায় অভিযুক্ত যুবদল নেতা এনামুল হক সবুজের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে বাকশিমুল ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি জসীম উদ্দীন বলেন, যতদূর মনে পড়ে রেলের সরকারি মাটিকাটা নিয়েই দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল।





